Power and Functions of People’s Representatives at different (grassroots) tyres of Governance-(II)
Zilla
Parishad to Panchayat
পশ্চিমবঙ্গে পঞ্চায়েতি রাজ ব্যবস্থা
১৯৯২ সালে সংবিধানে গৃহীত ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর সংশোধনী আইনের নির্দেশানুসারে রাজ্যে গ্রামাঞ্চলে, ত্রি-স্তরীয় কাঠামোয় গ্রাম স্তরে ‘গ্রাম পঞ্চায়েত’, গ্রাম ও জিলার মধ্যবর্তী স্তরে ‘পঞ্চায়েত সমিতি’ এবং জিলা স্তরে ‘জিলা পরিষদ’ গঠন করা হয়এবংশহরাঞ্চলে পৌরসরকার গঠন করা হয়। আইনে বলা হয় রাজ্য সরকার তার প্রশাসনিক ক্ষমতা শাসন পরিচালনগত নীতি প্রণয়নের ক্ষমতা ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা ও দায়িত্বের উল্লেখযোগ্য অংশ এই নব প্রস্তাবিত স্ব-শাসন কাঠামোর নিকট হস্তান্তরিত করবে। রাজ্য সরকারের মূল উদ্দেশ্য হবে এই নব গঠিত সংস্থাগুলি যাতে নিজ নিজ স্থানীয় ক্ষেত্রের জন্যে অর্থনোইতিক উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রণয়ন ও রূপায়ন এবং সামাজিক ন্যয়বিচার সংক্রান্ত বিষয়গুলি ইতিবাচকভাবে পরিচালনা করতে পারে।সংবিধানের মূল উদ্দেশ্য ছিল গ্রামাঞ্চলে পঞ্চায়েতের এবং শহরাঞ্চলে পৌরসরকারের মাধ্যমে ক্ষমতা ও কর্তৃত্বের বিকেন্দ্রীকরণ। তবে সংবিধানের এই বিকেন্দ্রীকরণ মূলক উদ্দেশ্যকে একমাত্র রাজ্যই সফলভাবে বাস্তবায়িত করতে পারত। তাই এই উভয় সংশোধনী আইনকে রাজ্যতালিকা ভুক্ত করা হয়েছে।এবং একটি শক্তিশালী ও কার্যকরী শ্ব-শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার যাবতীয় দায়িত্ব রাজ্য সরকারকেই প্রদান করা হয়েছে। এই বিষয়ে কোন সন্দেহই নেই যে সংবিধানের ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর সংশোধনী আইন ‘গণতান্দস্ত্রিক বিকেন্দ্রীকরণের নীতি প্রয়োগের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। এই সংশোধনীর প্রধানতম উদ্দেশ্য ছিল, এমনভাবে গনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায়স্থানিয় স্তরের স্ব-শাসিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা, যাতে এই প্রক্রিয়ার সাথে জড়িত নির্বাচিত প্রতিনিধিবর্গ তৃণমূল স্তরের উন্নয়নের বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সাথে তা বাস্তবায়িত করার ক্ষমতা ও দায়িত্ব ভগ করতে পারে এবং সমগ্র রাজত স্তরের উন্নয়নের সাথে স্থানীত তৃণমূল স্তরের উন্নয়নকে একত্রীভুত করতে পারে। সংবিধানের প্রতি মান্যতা প্রদর্শন করে নির্দিষ্ট সময়ান্তর সর্বজনীন ভোট-প্রদানের মাধ্যমে স্থানীয় স্ব-সরকার গঠণ করে গণতান্ত্রিক কাঠামোয় তাকে উপযুক্তভাবে প্রতিষ্ঠা করা ও সক্রিয় ব্যবস্থায় পরিণত করার দায়িত্ব প্রদান করা হয় রাজ্য সরকারকে। ৭৩ এবং ৭৪ নম্বর সংশধনী আইনের বৈশিষ্ট্য ছিল, তৃণমূল স্তরের স্থানীয় স্ব-সরকারকে সংবিধান কার্যত কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরের শাসন কাঠামর প্রায় সমতূল্য করে গঠন করেছিল।কার্যত স্থানীয় স্তরের স্ব-সরকার ছিল ভারতীয় গণতান্ত্রিক শাসনকাঠামোর তৃতীয় স্তর।
1992 সালের ৭৩ নম্বর সংশোধনীর প্রধান উদ্দেশ্য
১৯৯২ সালের ৭৩ নম্বর সংশোধনী আইনানুসারে ভারতের প্রায় প্রতিটি রাজ্য সরকারই নিজ নিজ আইনসভায় আইন গ্রহণ করে।কেবল অতি অল্প কয়েকটি রাজ্যে দ্বি-স্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গঠন করা হলেও, তা সংশধনীর উদ্দেশ্য পূরণে কোন ব্যাঘাত ঘটায় নি।
সাংবিধানিক সংশোধনীর প্রধান উদ্দেশ্যই ছিল ১৯৯২ সালের সংশোধনী আইনানুসারে পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকে সাংবিধানিক মর্যাদা প্রদান করা। ভারতীয় সংবিধানের ৪০ নম্বর ধারায় উল্লেখ করা হয়েছিল যে, গ্রামীন ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ব্যবস্থা গঠণ করা এবং পঞ্চায়েতের ক্ষমতা এমনভাবে হস্তান্তরিত করা যাতে পঞ্চায়েতগুলি স্থানীয় স্তরে স্ব-সরকার হিসাবে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বিংশ শতকের নব্বই দশক পর্যন্ত এই ব্যাপারে কেন্দ্র বা রাজ্যের ইতিবাচক সাড়ার অভাবে, শেষ পর্যন্ত সরোকার সংশোধনীর মাধ্যমে এগিয়ে আসে, ৪০ নম্বর ধারাকে বাস্তবায়িত করতে।এ’কথা সুনিশ্চিতভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে সংশধনীর মূল নীতি গড়ে উঠেছিল গান্ধীবাদী দৃষ্টিভঙ্গী থেকে। গান্ধিজীর স্বপ্নই ছিল এমন এক ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েতী ব্যবস্থা রাজ্যের তৃণমূল স্তরে গড়ে তোলা যা সরাসরি নিজ নিজ এলাকার বিভিন্ন বিষয় ও সেই সংক্রান্ত সমস্যার মোকাবিলা করতে সক্ষম।
পঞ্চায়েতের গঠন।
১৯৯২ সালে গৃহীত ৭৩ তম সংশোধনী আইনেরনির্দেশিকা অনুসরণ করে অধীকাংশ রাজ্যে ত্রি-স্তর পঞ্চায়েত ব্যবথা গড়ে উঠেছে, যার প্রথম স্তরে গ্রাম-পঞ্চায়েত, দ্বিতীয় স্তরে অঞ্চল, মণ্ডল, তালুক বা ব্লক স্তরের পঞ্চায়েত সমিতি, এবং জিলা স্তরে বা সর্বোচ্চ স্তরে জিলা পরিষদ।পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মূল ভিত হল গ্রাম পঞ্চায়েত, যেখান থেকেই অঞ্চল/ব্লক বা জিলা স্তরে্র চুড়ান্ত কার্যাবলী স্থিরীকৃত হয়। তিনটি স্তরেই স্থানীয় স্তরের নিম্নবর্গীয় বা তফসিলিভুক্ত সম্প্রদায়গুলি যাতে উপযুক্ত প্রতিনিধিত্বের অধিকার অর্জন করতে পারে তার জন্যে তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্যে আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
সংবিধানের 243(b) ধারা অনুসারে একট পঞ্চায়েত এলাকার মধ্যেবসবাসকারী যার নাম ভোটার তালিকায় নথীভুক্ত, সকল ব্যক্তিই গ্রামসভার সদস্য। গ্রাম সভা হল পঞ্চায়েত ব্যবস্থার মূল ভিত্তি। সংবিধানের 243(A)অনুসারে রাজ্য আইনসভা কর্তৃক প্রদত্ত সকল কার্যাবলী গ্রামসভার নের্তৃত্বে সম্পন্ন হয়। গ্রামসভা হল এলাকার সকল ভোটার তালিকায় নথীভুক্ত ব্যক্তির মতামত প্রদানে গ্রাম সমূহের উন্নয়নের এবং স্থানীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা পরিচালনার প্ল্যাটফর্ম।গ্রামসভার পরিকল্পনা অনুসারে পঞ্চায়েত বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যাবলী গ্রামসভার তত্ত্বাবধানে সম্পাদন করে। অর্থাৎ পঞ্চায়েতের সকল সিদ্ধান্তই গ্রামসভার প্রস্তাবানুসারে এবং তার অনুমোদনক্রমে গ্রহণ করা হয়। পঞ্চায়েত ব্যবস্থার তিনটি স্তরের সংমিশ্রণে গ্রাম সভা গঠিত হয়। প্রাথমিক স্তরে ঠাকে গ্রাম-পঞ্চায়েত, পরবর্তী স্তরে অঞ্চল বা ব্লক ভিত্তিক পঞ্চায়েত সমিতি এবং তৃতীয় বা সর্বোচ্চ স্তরে জিলায় জিলা পরিষদ। পঞ্চায়েত সমিতিতে রাজ্য সরকারের তরফে ব্লক উন্নয়ন আধিকারিক (B.D.O.) সমিতি বা অঞ্চল্ভুক্ত গ্রামগুলির কাজকর্ম দেখাশুনা করে এবং জিলা পরিষদের সঙ্গে রাজ্য-প্রশাসনিক যোগাযোগ রক্ষা করে চলে।অঞ্চল বা ব্লক স্তরে পঞ্চায়েতের কার্যাবলীর জন্যে ব্লকের উন্নয়ন আধিকারিক জিলার প্রশাসনিক আধিকারিকের নিকট দায়বদ্ধ থাকেন। জিলায় জিলা ম্যাজিস্ট্রেট (Distric Magistrate/ D.M.) জিলা পরিষদের সচিব হিসাবে রাজ্য প্রশাসনের প্রতিনিধিত্ব করেন। জিলা স্তরে উন্নয়ন প্রকল্প ব্লক বা অঞ্চল স্তরের পঞ্চায়েত সমিতির সহায়তায় করা হয়।
পঞ্চায়েতের তিনটি স্তরেই প্রতিনিধিগণ নিজ নিজ এলাকার নথীভুক্ত ভোটারদের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। পঞ্চায়েত ও পৌর স্তরে নির্বাচন পরিচালনা করার জন্যে রাজ্য সরোকার ‘রাজ্য নির্বাচন কমিশন’ গঠন করে। এই কমিশন নগর ও গ্রামের তৃণমূল স্তরের প্রতিনিধি নির্বাচনের উদ্দেশ্যে ভোটার তালিকার তত্ত্বাবধান, রখনাবেক্ষণ, নিয়ন্ত্রণ করে এবং ভোতার তালিকা অনুসারে পঞ্চ্যেত স্তরে (এবং পৌরসভাগুলিতে) নির্বাচন প্রক্রিয়া পরিচালনার প্রস্তুতি গ্রহণ করে। সংবিধানের 243(C) ধারা অনুসারে রাজ্য আইনসভা পঞ্চ্যেতের গঠন ব্যবস্থা নির্ধারণ করে। পঞ্চায়েতের যে কোন স্তরের আসন সংখ্যা উক্ত অঞ্চল ভিত্তিক জনসংখ্যার ভিত্তিতে নির্ধারিত হয়।পঞ্চায়েতের প্রতিটি স্তরের প্রতিনিধিগণ প্রত্যক্ষ নির্বাচন প্রক্রিয়ার দ্বারা নির্বাচিত হন। কেবল মধ্যবর্তী স্তরের পঞ্চায়েত সমিতি ও জিলা পরিষদের সভাপতিগণ পঞ্চায়েতে নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে পরোক্ষে নির্বাচিত হন।
সবিধানের 243(D)ধারায় পঞ্চায়েত নির্বাচনে আসন সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিষয়ে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। সংবিধানে উল্লেখ করা হয়েছে, জনসংখ্যার (প্রাপ্তবয়স্ক) অনুপাতে তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্যে আসন সংরক্ষিত থাকবে। এই ধারায় আরও বলা হয়েছে যে, তফসিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলাদের জন্যে মোট সদস্য সংখ্যার এক-তৃতীয়াংশ আসন সংরক্ষিত রাখা হবে।মহিলা সদস্যদের বিষয়ে আরও বলা হয়েছে যে পঞ্চ্যেতের প্রটি পর্যায়ের সভাপতিত্বের পদের এক-তৃতীয়াংশও মহিলা সদস্যদের জন্যে সংরক্ষিত থাকবে।এছাড়া পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর আসন সংরক্ষনের বিষয়টি রাজ্য আইনসভা নির্ধারণ করবে।
পঞ্চায়েতের মেয়াদকাল সংবিধানের 243(E) ধারা অনুসারেপঞ্চায়েতের প্রথম সভা থেকে পাঁচ বছর। এই সময়কাল কোন অবস্থাতেই বৃদ্ধি করা যাবে না। পাঁচ বছরের মধ্যবর্তী কালে কোন কারণে যদি পঞ্চায়েতকে ভেঙ্গে দেওয়া হয়, তবে বাকী সময়ের জন্যে পঞ্চায়েত নির্বাচন গেনজ্ঞে দেওয়ার ছয়মাসের মধ্যে করতে হবে।তবে ভেঙ্গে দেওয়ার সময় পঞ্চায়েতের মেয়াদ যদি ছয়মাসই বাকি থাকে, তাহলে মধ্যবর্তীকালীন নির্বাচন হবে না।
পঞ্চায়েতের ক্ষমতা ও কর্তব্য।
সংবিধানের 243(G)ধারা, রাজ্য আইনসভাকেপঞ্চায়েতকে স্ব-সরকার হিসাবে কাজ করার ও দায়িত্ব পালন করার ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব প্রদানে বাধ্য করে। স্থানীয় জনগণের জন্যে উন্নয়নমূলক অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করা পঞ্চায়েতের একতি অবশ্য পালনীয় দায়িত্ব। এছাড়াও সামাজিক ন্যয় বিচার ব্যবস্থা সুরক্ষিত রাখার দায়িত্বও পঞ্চায়েতের হাতেই অর্পণ করা হয়েছে।সবিধানের 11 নম্বর তফসিল ভুক্ত ২৯ টি বিষয়ে, যেগুলি স্থানীয় পরিকল্পনা প্রণয়ন ও রূপায়নের সঙ্গে জড়িত, সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা ও তা অনুসরণ করার কর্তৃত্ব সংবিধান পঞ্চায়েতের হাতে অর্পণ করেছে। যেমন “মহাত্মা গান্ধী জাতীয় গ্রামীণ কর্মসংস্থান গ্যারান্টি ২০০৬” (MGNREGA) বাস্তবায়নের দায়িত্ব পঞ্চায়েতের হাতে দেওয়া হয়েছে। এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হল, গ্রামীণ কর্মসংস্থানকে সুনিশ্চিত করা।এছাড়াও কেন্দ্রীয় সরকার বা রাজ্য সরকার সাধারন মানুষের উন্নয়নে যে সমস্ত পরিকল্পনা বা প্রকল্প গ্রহণ করে, সেইগুলি স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োগ ও বাস্তবায়নের দায়িত্ব পঞ্চায়েতের।
আর্থিক ক্ষমতা ও দায়িত্ব।
সংবিধানের 243(I) ধারা অনুসারে রাজ্যেররাজ্যপাল পঞ্চায়েতের আর্থিক অবস্থান পর্যালোচনার জন্যে রাজ্য অর্থ কমিশন গঠন করেন। অর্থ কমিশন এই সংক্রান্ত অনান্য দায়িত্ব ছাড়াও, রাজ্যে সংগৃহীত করের কত শতাংশ রাজ্য ও পঞ্চায়েতগুলির মধ্যে বন্টিত হওয়া দরকার সে বিষয়ে স্রাজ্য সরকারকে পরামর্শ দেয়।বিভিন্ন পঞ্চায়েত তার নিজ নিজ এলাকার বাসীন্দাদের কাছ থেকে কি হারে কর শুল্ক ও টোল বাবদ অর্থ সংগ্রহ করবে সে বিষয়েও নির্ধারণ করে দেয়।সংবিধানের 243(J) ধারায় রাজ্য আইনসভা পঞ্চায়েতকে, কিভাবে হিসাব ও তার নিরীক্ষা সংরক্ষণ করতে হবে, সে বিষয়ে নির্দেশ দিতে পারবে।রাজ্য আইনসভা আইন প্রণয়ন করে পঞ্চায়েতকে কর, শুল্ক এবং টোল বাব্দ অর্থ আদায় করার কর্তৃত্ব প্রদান করতে পারে। কোন একটি নির্দিষ্ট উন্নয়ন মূলক কাজে অর্থ সংগ্রহের জন্যে রাজ্য সরকারপঞ্চায়েতকে কর, শুল্ক বা টোল বাবদ অর্থ আদায় করার কর্তৃত্ব প্রদান করতে পারে। প্রয়োজনে পঞ্চায়েতের আর্থিক সংকটে রাজ্যের বিশেষ সঞ্চিত তহবিল থেকে রাজ্য সরকার অর্থ প্রদান করতে পারে। প্রয়োজনে রাজ্য সরকার এমন একটি তহবিল গঠন করতে পারে, যেখান থেকে পঞ্চায়েত প্রয়োজনে অর্থ ক্রেডিট ও প্রত্যাহার করতে পারে।
বাধ্যতামূলক ও স্বেচ্ছাধীন বিধান।
সংবিধানের 73 নম্বর সংশোধনী আইন কতকগুলি বাধ্যতামূলক বিধান রাজ্য আইনসভার জন্যে নির্ধারণ করে। যেমনঃ
·
পঞ্চায়েত ও স্ব-সরকারের প্রতিনিধিদের পাঁচ বছর অন্তর নির্বাচন পরিচালনার জন্যে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের প্রতিষ্ঠা।
·
পঞ্চায়েতের ক্ষেত্রে গ্রামসভা গঠণ।
·
ত্রি-স্তরীয় পঞ্চায়েত ব্যবস্থার গঠণ।
·
স্থানীয় স্ব-শাসিত সরকারের সদস্যদের প্রত্যক্ষ নির্বাচনের দ্বারা নির্বাচিত করা।
·
তফসিলি জাতি, উপজাতি (পুরুষ ও মহিলা উভয় লিঙ্গের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য), মহিলা, ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর জন্যে আসন সংরক্ষনের ব্যবস্থা।
·
প্রতি পাঁচ বচর অন্তর রাজ্য অর্থ কমিশন গঠন করে পঞ্চায়েতের অর্থিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ।
·
পঞ্চ্যেয়েতের বিভিন্ন স্তরের সভায় স্থানীয় আইনসভার সদস্য ও সাংসদদের অংশ গ্রহণের সুযোগ।
·
স্থানীয় উন্নয়নের স্বার্থে প্রয়োজনীয় প্রকল্প ও পরিকল্পনা প্রণয়ণের দায়িত্ব পঞ্চায়েতকে প্রদান।
·
কেন্দ্র বা রাজ্য কোন স্তরেই স্বশাসিত সরকার গঠনের সংশধনী আইনের সংশোধন করা যাবে না।
পঞ্চায়েত ও পঞ্চায়েত সদস্যদের কার্যাবলী
পঞ্চায়েত সদস্যদের প্রধান কাজ বা দায়িত্ব হল, স্বাস্থ্যবিধান, স্বাস্থ্যব্যবস্থা, জঞ্জাল সাফাই, এবং এলাকার বিভিন্ন সম্পরদায়ের মধ্যে স্বাস্থ্য সম্পর্কিত প্রতিরোধমূলক বিধিব্যস্থাথা সুনিশ্চিত করে। সামাজিক উন্নয়নের প্রাথমিক স্তরে পৌছানোর জন্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা, পরিস্কার পানীয় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করা বা প্রয়োজনীত পরিকাঠাম্মো গড়ে তোলা, ও শিক্ষার সামাজিকীকরণের উপর নজর রাখা। স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও আবাসন প্রকল্পের মাধ্যমে মানুষের সাধারণ জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রাম বা এলাকাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার উদ্দেশ্যে, জন-জীবন মিশন (মিশনের অন্যতম লক্ষ্য হল ঘর ঘর নল’-বাহিত জলের সরবরাহ), প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা (যোজনার অন্যতম লক্ষ্য হল, দারিদ্রসীমার ণিচে বসবাসকারী জনসংখ্যার জন্য আবাসন নির্মানের পরিকল্পনা)
. সংবিধানের 243(G) ধারার অন্তর্গত ১১ নম্বর তফসিলে পঞ্চায়েতের সম্ভাব্য
কার্যাবলীর বিস্তৃত রালিকা প্রদান করা হয়েছে। এই কাজগুলি সম্পাদন যাতে পঞ্চায়েত
করএ পারে বা করে তার দিকে নজর রাখার দায়িত্ব যেমন রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়েছে, তেমনি উল্লিখীত কাজগুলি যাতে
পঞ্চায়েত করতে পারে, তার উপযোগী আর্থিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিকাঠামো
নির্মাণে সহায়তা করার দায়িত্ব ও নির্দেশও রাজ্য সরকারকে দেওয়া হয়েছে। এই কাজ বা
দায়িত্বগুলি হলঃ
1)
গ্রামীন
কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তার সম্প্রসারনের দায়িত্ব পঞ্চায়েত সদস্যদের প্রদান করা
হয়েছে।
2)
কৃষি জমির
উন্নয়ন, ভূমিসংস্কার
মূলক সরকারী উদ্যোগের বাস্তবায়নে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করা, জমি একত্রীকরণের সক্রিয় চেষ্টা (এরজন্যে প্রয়োজন বিভভিন স্থানের
জমির মালিকানা চিহ্নিতকরণ) এবং ভূমি সররক্ষণ করা।
3)
ক্ষুদ্রসেচ
ব্যবস্থার উন্নয়ন, সেচ নালার উন্নয়নের মাধ্যমে জমিতে জলসরবরাহের উন্নয়ন এবং
বিভিন্ন জলাশয় উন্নয়ন বা প্রয়োজনীয় স্থলে খননের মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন।
4)
গ্রামের মানুষকে
পশুপালন, দুগ্ধ
উতপাদন, হাঁস, মুরগি পালনে আকৃষ্ট করে এবং
প্রয়োজনীয় সহায়তা করে তাদের আর্থিক উন্নয়নকে সচল রাখার উপযোগী কর্মসূচী গ্রহণ করা
পঞ্চায়েত সদস্যদের অন্যতম দায়িত্ব।
5) গ্রামের পুষ্করিণীতে ম্মাছ চাষে উৎসাহিত করা, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রাপ্যতা বৃদ্ধি করে, মাছ চাষকে জনপ্রিয় করে তোলার
কাজও পঞ্চায়েতের সদস্যকে করতে হয়, কারণ এর মাধ্যমে গ্রামীন আয়ের পমাণ বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা
ঠাকে,
6) সামাজিক বনায়ন এবং ব্যবসায়িক বনায়ন, এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে।
সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে গ্রামীন পরিবেশের উন্নতি ঘটে। বিশেষকরে জ্বালানির
উদ্দেশ্যে কাঠ ব্যবহারের সাবেকী অভ্যাসের দরুণ বহ্য গ্রামে বৃক্ষ উচ্ছেদ একটি সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত
হয়েছে। তা রোধ করতে নাপারলে পরিবেশ দূষণ থেকে মুক্ত পাওয়া যেমন যাবে না তেমনিই
ন্দীর তিরবর্তী গ্রামগুলির প্রাকৃতিক কারণে ঘটা ভূমিক্ষয়ও রোধ করা যাবে না। পাশাপাশি
বৃক্ষায়নের সময় বানিজ্যিকভাবে উপযোগী এবং অর্থ উপার্জনের সহায়ক বৃক্ষ সৃজনের দিকে
নজর দিলে গ্রামের ভবিষ্যৎ আয় বৃদ্ধির ইতিবাচক সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।সুতরাং এইদিকে
নজর দেওয়া পঞ্চায়েত সদস্যের নিকট জরুরী।
7) ক্ষুদ্র বনজ পণ্য বা ঔষধী পণ্যের সৃজনঅনেকক্ষেত্রেই গ্রামীন
উন্নয়নের সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। পঞ্চায়েত সদস্যকে সেইদিকেও মনোনিবেস করতে হবে।
8) গ্রামের চিরায়ত ক্ষুদ্র শিল, হস্তশিল্পের দিকে বিশেষ নজর
দিয়ে পঞ্চায়েত গ্রামীন অর্থনীতির উন্নয়ন ঘটাতে পারে। এরি সঙ্গে যুক্ত করতে পারে
খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্প। পাঁপড়, বড়ি, আচার, ফুল উৎপাদন, বুনন শিল্পজাত কাঁথা ইত্যাদির উপর গুরুত্ব উৎসাহ প্রদানের
মাধ্যমে বিশেষ করে গ্রামীন মহিলাদের নিকট আয়ের উৎসকে পঞ্চায়েত উন্মুক্ত করে দিতে
পারে।
9) খাদি গ্রামীন কুঠির শিল্পের উন্নয়নের দিকে নজরপাত করে, পরিবারের আয় বৃদ্ধিতে সহায়তা
করতে পারে বিশেষ করে মহিলাদের আরও বেশী আত্মনির্ভশীল করে তুলতে পারে।
10) গ্রামীন আসাসন যোজনার অন্তর্ভুক্ত করে গৃহহীন বা চালা ঘড়ে
বসবাসকারী গ্রামীন মানুষের সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের দায়িত্ব পঞ্চায়েত সদস্যদের
উপরেই সংবিধান প্রদান করেছে।
11) গ্রামে নলবাহিত পানীয় জল সরবরাহ করা একতি অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ কাজ। কারন খোলা অ বিভিন্ন কাজে ব্যবহৃত পুষ্করিণীর জল পানীয় জন
হিসাবে ব্যবহার করার ফলে গ্রামের মানুষ অতি সহজেই জন-বাহিত রোগে আক্রান্ত হয়।
12) গ্রামে জ্বালানীর নিমিত্ত বৃক্ষ ছেদন, গ্রামীন পরিবেশের উপর নেতিবাচক
প্রভাব ফেলে। এর পরিবর্তে বিকল্প জ্বালনীর প্রাপ্যতা গ্রামের মানুষের কাছে বৃদ্ধি
পেলে স্বাভাবত বৃক্ষ ছেদন রোধ করা যাবে ও পরিবেসকেও সুরক্ষিত রাখা যাবে। এরই সঙ্গে
গ্রামের একটি অন্যতম সমস্যা হল পশুখাদ্যের জোগান অক্ষিন্ন রাখা। সুতরাং পঞ্চায়েত
সদস্যকে পশুখাদ্য সরবরাহের দিকে সর্বদা নজর রাখতে হয়।
13) গ্রামের সঙ্গে প্রধান জাতীয় সড়কের যোগাযোগ স্থাপনকারী
রাস্তার উন্নয়ন গ্রামবাসীকে শহরের বাজার অভিমুখী করতে সাহায্য করে। তাই গ্রামের
আভ্যন্তরীন রাস্তার নিয়মিত সংস্কার, প্রয়োজনীয় স্থলে সেতু নির্মান, সম্ভাব্যস্থলে ফেরী ব্যবস্থার
বাস্তবায়ন করে জলপথে যাতায়াতের ব্যবস্থা করা এবং তারই সাথে যায়ায়াতের অনান্য
উপায়গুলির সংস্কার সাধন গ্রামীন উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে। তাই পঞ্চায়েত সদস্যকে এই
কাজে বিশেষ নজ্র দিতে হয়।
14) গ্রামীন বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণের বিষয়ের উপরও
নজর রাখা পঞ্চায়েত সদস্যদের একটি অন্যতম দায়িত্ব।
15) গ্রামীন বিদ্যুতায়নের পাশাপাশি সহজ ও সস্তায় বিদ্যুৎ
উৎপাদনের জন্য অপ্রচলিত শক্তির উৎসের সন্ধান করা এবং সেই কাজে সংশ্লেষ্ট ব্যক্ত বা
সংস্থাকে উপযুক্ত উৎসাহ প্রদান পঞ্চায়েত স্পদপ্স্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
16) গ্রামে দারিদ্র বিমোচন কর্মসুচি গ্রহন করা পঞ্চায়েত সদস্যের
অন্যতম সামাজিক ও অর্থনৈতিক দায়িত্ব হিসাবে বিবেচিত হয়।
17) প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষা ব্যবস্থা যাতে বিনা
বাধায় চালু ঠাকে, এবং গ্রামের সকল শিশু কিশোর/কিশরী যাতে শিক্ষার সুযোগ
পরিপূর্ণভাবে গ্রহণ করতে পারে তা দেখার দায়িত্ব পঞ্চায়েত সদস্যকে বহন করতে হয়। এর
কোন ব্যতিক্রম সৃষ্টি হলে গ্রামে শিক্ষাগত অরাজকতা দেখা দিতে পারে।এবং সংস্কারগত
প্রতিবন্ধকতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
18) প্রযুক্তগত শিক্ষা বৃত্তিমূলক শিক্ষা শুধু প্রথাগত সাবেকি
শিক্ষাই নয়, পঞ্চায়েত
গ্রামে প্রযুক্তিগত ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা প্রসারেও সক্রিয় চেষ্টা করে।
19) পঞ্চায়েত প্রথা বা নিয়ম বির্হিভূত শিক্ষা বিস্তারের
উদ্দেশ্যে গ্রামে বিভিন্ন সমিতি বা উদ্যোগ গড়ে তুলতে, বা গড়ে ওঠায় সহায়তা করতে তৎপর
থাকে। এই ধরণের উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হল বয়স্ক মহলা বা পুরুষদের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়
অর্থকরি শিক্ষা বা প্রশিক্ষনের মাধ্যমে তাদের কর্ম ক্ষমতা ব্যবহারের সযোগ সৃষ্টি
করার। এরফলে কৃষিকর্মের অবসরে কৃষির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক এবং গৃহিণীরা তাদের গৃহ
কর্মের অবসরে হাতের বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে আর্থিক রোজগার করতে পারে।
20) গ্রামীণ গ্রন্থাগার নির্মান ও পরিচালনার ব্যবস্থা করা, পঞ্চায়েতের সদস্যগণের একটি
গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সিক্ষার প্রসারের সাথে সাযূজ্য রেখে গ্রন্থাগারের উন্নতি
গ্রামীন সমাজের মৌলিক চরিত্রের মধ্যে পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
21) গ্রামে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা এবং নাচ, গান নাটকের মাধ্যমে গ্রামের
মানুষের সাদামাটা জীবনে অনন্দের মূহূর্ত সৃষ্টি করার দায়িত্বও পঞ্চায়েত সদস্যদেরই
গ্রহণ করতে হয়।
22) বাজার প্রতিষ্ঠা করা, মেলার আয়োজন করা ইত্যাদি সকলই
পঞ্চায়েতের সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ কাজের মধ্যেই পড়ে। বাজার বা মেলা যেমন গ্রামের
আর্থিক কেনাবেচার হারকে বৃদ্ধি করে, তেমনি মেলা প্রাঙ্গণ অনেকের মিলনে এক নতুন সংস্কৃতির পত্তণ
করতে পারে।
23) স্বাস্থ্য পরিসেবা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষনের
উদ্দেশ্যে হাসপাতাল, প্রাথমিক স্বাস্থ্য-কেন্দ্র তৈরী করা, গ্রামের মধ্যে ডাক্তারখান ও
ঔষধালয় নির্মান করা, প্রভৃতি কাজগুলিগ্রামীন সমাজব্যবস্থাকে উন্নয়নের দিকে এগিয়ে
যেতে সাহায্য করে।
24) পরিবার ও পরিবার কল্যানের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েতের প্রাত্যাহিক নজরদারী
মূলক দায়িত্বগুলির মধ্যে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।
25) পরিবার ও পরিবার কল্যানের সঙ্গে গভিরভাবে জড়িত মহিলা ও
শিশুদের কল্যান ও উন্নয়ন। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার শিশু কল্যান ও মহিলা কল্যানের
উপযোগী বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করে। সেই প্রকল্পগুলিকে গ্রামীন ক্ষেত্রে বাস্তবায়িত
করা হল পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্যদের অন্যতম কাজ।
26) সামাজিক উন্নয়ন প্রকল্পের সাথে জড়িত দৈহিক প্রতিবন্ধী ও
মানসিক প্রতিবন্ধীদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা, তাদের জন্যে বিশেষ কর্মসূচী
পঞ্চায়েতের নের্তৃত্ব গ্রহন করা। এই সংক্রান্ত কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের
প্রকল্পগুলিঢ় বাস্তবায়নের দায়িত্বও পঞ্চায়েতকেই বহন করতে হয়।
27) তফসিলি জাতি উপজাতি এবং সমাজের বিভিন্ন পিছিয়ে পড়া
সম্প্রদায়ের উন্নয়নের দিকেও পঞ্চায়েতকে নজর দিতে হয়। এই সংক্রান্ত সরকারী (কেন্দ্র অথবা রাজ্য) প্রকল্পের প্রয়োগের কাজও
পঞ্চায়েত সদস্যদের দ্বারাই সম্পাদিত হয়।
28) পঞ্চায়েতের একতি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হল গণবন্টন
ব্যবস্থাকে চালু রাখা, এবং বন্টন ব্যবস্থায় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের সফল প্রয়োগ
করা।
29) গ্রামের বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে যে ঐতিহ্যগত কৃষ্টি, প্রথা, ও অনান্য বিশেষত্ব আছে, তা সুরক্ষিত রাখা পঞ্চায়েত
সদস্যদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিভিন্ন সম্প্রদায়ের নিজস্ব এই সাবেকী
সম্পদ তাদের জীবনধারার কিছু অভিনব পদ্ধতি, প্রাচীন ভারতের ঐতিহ্যকেই রক্ষা
করে চলে।
মূল্যায়ন
তবে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সফলতার অন্যতম অন্তরায় হল, সংশোধনী আইনে পঞ্চায়েতের জন্যে
কোন সুনির্দিষ্ট তহবিলের সৃষ্টি করা হয় নি। এর ফলে অধিকাংস দায়িত্ব পালনের জন্যে
পঞ্চায়েতকে, হয়
স্থানীয় স্তরে কর আদায়ের উপর কিংবা রাজ্য সরকারের সহায়কমূলক অনুদানের উপর নির্ভর
করে থাকতে হয়। অনুদানের উপর অত্যধিক নির্ভরশীলতার কারণে পঞ্চায়েতের সদস্যগন তাদের
দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে প্রায় অধিকাংশ সময়েই সাংসদ বা রাজ্য আইনসভার সদস্যদের
পরোক্ষ খবরদারীর দ্বারা পরিচালিত শতে বাধ্য হয়। ৭৩ নম্বর সংশোধনী আইন পঞ্চায়েতকে
সাংবিধানিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করেছে। এই বিষয়ে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই। কিন্তু একই
সঙ্গে রাজ্য সরকারের অর্পিত ক্ষমতা, দায়িত্ব ও আর্থিক অনুদানকে করে রেখেছে পঞ্চায়েতের ক্ষমতার
মূল উৎস।পঞ্চায়েতের কাজের জন্যে প্রাথমিকভাবে প্রয়োজন ছিল, সদস্যদের কাজ করার প্রযুক্তিগত
দক্ষতা তৈরী করা এবং নির্দিষ্ট প্রশিক্ষিত সচিবের প্রত্যক্ষ সহায়তা প্রদান করা। এই
দুইয়ের কোন বন্দোবস্তই সংশোধনী আইনে করা হয় নি। সবথেক বড় কথা মহিলাদের জন্যে এবং
তফসিলি জাতি উপজাতির বাধ্যতামূলকভাবে আসন ও পদ সংরক্ষনের ব্যবস্থা সংশোধনীতে করা
হয়েছে। কিন্তু তাদের সামাজিক অবস্থান এবং মহলাদের ক্ষেত্রে পুরুষ শাসিত সমাজে
তাদের সামাজিক মর্যাদা, এর কোনটারই পরিবর্তন করার কোন প্রচেষ্টাই এতাবৎকাল ভারতে
করা হয় নি। ফলে মহিলাদের সামনে রেখে বা তফসিলি জাতি উপজাতিদের দীর্ঘকালীন অজ্ঞতা ও
সামাজিক আড়ষ্টতা সামনে রেখে গ্রামের একশ্রেণীর মধ্যবিত্ত শিক্ষিত বা স্বল্প
শিক্ষিত রাজনৈতিক নেতা “সমাজ কর্মী” বেশ ধরে কোন একটি ক্ষমতাপ্রাপ্ত দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এবং
দলের প্রতি প্রশ্নাতীত আনুগত্য প্রদর্শণ করে পরম নিশ্চিন্তে পঞ্চায়েতের ক্ষমতা, পঞ্চায়েতের নির্বাচিত সদস্যদের
পিছন থেকে, বেয়াইনীভাবে
ব্যবহার করে চলেছে। অর্থাৎ বলা যায় বর্তমানে ভারতে পঞ্চায়েতের নামে “এক নতুন ধরণের রাজনৈতিক পুতুল খেলা” চলেছে।
তবুও ভারতে পঞ্চায়েত ব্যবস্থার সাংবিধানিক স্বীকৃতি অবশ্যই রাজনৈতিক
সমীকরনে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে। ভারতের অধিকাংশ রাজ্যেই প্রায় নিয়মিতভাবেই
পঞ্চায়েত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এই নির্বাচন প্রায় 600 শত জিলা পরিষদ, মোটামুটিভাবে 6000 পঞ্চায়েত সমিতি এবং আনুমানিক 2.3 লক্ষ্য গ্রাম পঞ্চায়েতে মোট
প্রায় 28 (আঠাশ) লক্ষ্য নির্বাচিত প্রতিনিধিকে আনুষ্ঠানিকভাবে
ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সাংবিধানিক নীতি ও প্রবিধান অনুসারে রাজনৈতিক ক্ষমতা, দায়িত্ব ও কর্তৃত্ব প্রদান করা
হয়েছে। কিন্তু
আশ্চর্যের বিষয় হল, এত সংখ্যাক সদস্যকে গনতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং সাংবিধানিক
প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত করে ক্ষমতা ও কর্তৃত্ব দেওয়া হলেও, এই স্ব-শাসিত সরকারী ব্যবস্থার জন্যে
কোন প্রশিক্ষিত আমলাবর্গ গড়ে তোলা হয় নি। অথবা তার প্রয়োজনীয়তার কথা সংবিধানেও
উল্লেখ করা হয় নি। বাস্তব
সত্য হল, অধিকাংশ
পঞ্চায়েত সদস্যই হয় অশিক্ষিত অথবা
অর্ধশিক্ষিত। তারা ক্ষমতা প্রাপ্তির জন্যে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করলেও, পঞ্চায়েতের ক্ষমতার গভীরত্ব
সম্পর্কে তাদের কোন সুস্পষ্ট ধারনা আছে কি’না সে বিষয়ে সন্দেহের যথেষ্ট
অবকাশ আছে। তাই তারা চাক বা না-চাক, প্রায় প্রত্যক্ষভাবেই গ্রামীন সমাজের মধ্যবিত্ত ক্ষমতালোভী ‘সমাজ কর্মী’ নামধারক রাজনৈতিক কর্মীর
করায়ত্ত্ব অতি সহজেই হয়ে পড়ছে। সবথেকে বড় কথা সংবিধান তার ১১ নম্বর তফসিলে
পঞ্চায়েতকে উন্নয়ন মূলক কাজের প্রধান কান্ডারি করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু কান্ডারী হওয়ার উপযুক্ত দক্ষতায় তাদের দীক্ষিত বা
সুযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করে নি। ফলে পঞ্চায়েত ঘিরে বহু রাজ্যে কায়েমী স্বার্থের ক্রম
সম্প্রসারন ঘটেই চলেছে।
|
|
Comments
Post a Comment