Posts

Showing posts from May, 2022

Bureaucracy and Steps of Policy Making

  Most of the functions in Policy making process is done by the Bureaucracy. Because it is the vital Constitutionally accepted body, used for implementing the policy and decisions adopted by the Executives.  Point :01 :- But at present its core function is not limited within the policy implementation only. The Cabinet Secretariat helps the Parliamentary Committees’ to discuss on any proposal for rule making function, by providing information and data. Even on many occasion, Ministers discuss any crucial issues directory with their respective Secretary and take their advice before taking any decision . Point 02 :- Bureaucracy is the permanent executive part of the Government, while the members of Legislature are temporary part of the Government  Point :03 :- Bureaucracy are recuited professionally through Examination and then they are given training to adopt the functions of the system. They join in the service, accepting the “Service Conditins” put on them at the tim...

রবীন্দ্র চিন্তায় রাজনীতি সুজিত নারায়ণ চট্টোপাধ্যায়। রবীন্দ্রনাথ নিয়ে কিছু লেখার কথা ভাবলেই, মনটা শূন্যের মতো অবয়বহীন হয়ে পড়ে। কারণ তিনি এতদিকে, এতভাবে আমাদের মননে চিন্তায় বিকশিত যে, নিজের চিন্তার অবয়বহীনতা ব্যতিরেকে তাঁকে উপলব্ধি করা যায় না। বিশ্বকবি থেকে স্নেহশীল পিতা, কাব্য থেকে কবিতা, বৈষয়িক জীবন থেকে ধর্ম,শিক্ষা, সমাজ, রাজনীতি প্রায় স্পর্শযোগ্য, এবং উপভোগ যোগ্য সর্বত্রই তিনি আছেন। তিনি আছেন গল্পে, উপন্যাসে আবার আছেন দর্শন-সমৃদ্ধ প্রবন্ধে, কিংবা রসসমৃদ্ধ নাটকে, শিশুসাহিত্যের রসাধারে, শিলং পাহাড়ের কবিতার ছ্বটায় বা গণমুখী করবী মালার শোষণ স্নাত নাট্য সাহিত্যে। আবার এই রবীন্দ্রনাথ তাঁর সামাজিক জীবনে আদি ব্রাক্ষ্ম সমাজের সম্পাদক, অর্থনৈতিক জীবনে, এক প্রজাহিতৈষী জমিদার, যাঁর চিন্তা ও চেতনায় সৃষ্টি হয় ভারতে প্রথম সমবায়িক শ্রীনিকেতন। আবার তাঁর ভাবনার অলোক সমৃদ্ধ করেছে স্বাধীনতা সংগ্রামে পথ সন্ধানের প্রচেষ্টাকে। আসলে সকল চেনার মাঝে, তিনি দাঁড়িয়ে আছেন, তাঁর অবয়বহীন অচেনার বিমূর্ততায়। তাঁর অবয়বহীনতার মধ্যেই আমরা, যারা ‘সাধারণ’ বা “ছাপোষা’, তারা খুঁজে পাই আমাদের প্রাণধর্ম, খুঁজে পাই আমাদের হৃদয়াবেগ। তিনি তাই আছেন আমাদের ধরার মাঝে অধরা এক চিন্তার জ্যোতি নিয়ে। তাই রবীন্দ্রনাথ কে কেন্দ্র করে কোন লেখা কখন এবং কোন মননে পরিপূর্ণতা লাভ করবে, তা বলার ক্ষমতা, অন্ততঃ বর্তমান কলমচির নেই। রবীন্দ্রভাবনায়, রাজনীতি ক্ষমতার লড়াই, বা ক্ষমতা দখলের স্বীকৃত/অস্বীকৃত পথের সন্ধান ছিল না। তাঁর কাছে রাজনীতি ছিল একটি আদর্শ, যা সাধারণ মানুষকে আত্মপ্রত্যয়ে বলিষ্ট করে। তাই ঘড়ে বা বাইরে নিখিল লড়াই করে মানুষকে আত্মপ্রত্যয়ী করার জন্যে, আর সন্দীপ লড়াই করে ক্ষমতা দখলের জন্যে। নিখিল তার আদর্শকে অব্যাহত রাখতে গিয়ে মারা যায়, কিন্তু সন্দীপও জিততে পারে না, পালিয়ে যায়। নিখলের মৃত্যু আমাদের চেতনাকে নাড়া দেয়, কিন্তু সন্দীপের পলায়ন, আমাদের বাহ্যত ঘৃণার অভিন্যক্তি হয়ে থেকে যায়, শুধুই উপন্যাসের পাতায়। আসলে তিনি রাজনীতিকে ভাবতেন ভিন্ন ধারায়, যার সঙ্গে সাধারণ চলতি মানুষের চিন্তার সামঞ্জস্য, চলতি রাজনীতি, জাতীয়তাবাদী আন্দোলন, নরমপন্থী-চরমপন্থীর বিবাদ, বিপ্লবপন্থীর বিদ্রোহ, ইত্যাদির কোন সরাসরি মিল ছিল না। বিশ্বকবির প্রতিবাদের কাহিনী আলোচনার সর্বাগ্রে আমরা, স্মরণ করি, যে আপাত অরাজনৈতিক রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশ সামাজ্রবাদীর জালিয়ানওয়ালাবাগের হিংস্র নীতির বিরুদ্ধে সরব প্রতিবাদেও দ্বিধা করেন নি। বিপ্লবপন্থী না হয়েও তিনি বিশ্বাস করতেন, ভারতের অগ্রগমনের অন্যতম একটি বাধা হলো, ‘কুসংস্কারাচ্ছন্ন আচারের অবিবেচনা প্রসূত অবস্থান’। এই অবস্থানের অন্যতম কারন হলো দীর্ঘ বৈদেশিক শাসন। দীর্ঘ পরাধিনতায় ভারতীয়গণ তাদের আত্মবিচারকে মরুবালুরাশীর গহ্বরে হারিয়ে ফেলেছে, মুক্ত বিচারের আত্মশক্তি অদৃশ্য হয়ে গেছে। রবীন্দ্রনাথের রাজনীতিতে বিদেশী শাসকের গুরুত্বের চেয়ে অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিল দেশের মানুষ। তিনি সাধারণ ধারণাকে অনুসরণ করে মনে করতেন না, যে, বৃটিশ শাসনই ভারতবাসীর দুর্দশার একমাত্র এবং অন্যতম কারণ। বরং তিনি মনে করতেন ভারতবাসী নিজেই নিজের দুর্দশার বহু কারণ সৃষ্টি করেছে। ভারতীয়দের অভ্যন্তরীণ অনৈক্য এবং অবিশ্বাস, সামাজিক বৈষম্য, যুক্তিহীন আচার-অনুষ্ঠান, অন্ধ কুসংস্কারাচ্ছন্ন বিশ্বাস, জাত বর্ণে অন্ধ হয়ে মানুষের, মানুষকে ঘৃণা, সর্বোপরি অবৈজ্ঞানিক দৃষ্টিভঙ্গী, এই সব কিছুই হলো ভারতীয়দের দুর্দশার কারণ। রবীন্দ্রনাথ, একথা শুধু বলেনই নি, তিনি বিশ্বাস করতেন। দীর্ঘদিন বৈদেশিক শাসনের চরম ফলশ্রুতি হলো, এই দুর্বলতা। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, ভারতীয়রা যতক্ষণ না পর্যন্ত তাদের এই সুদীর্ঘকালের দূর্বলাতাকে দূর করতে না পারছে, ততক্ষণ ভারতীয়দের বৈদেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রাম নিস্ফল প্রচেষ্টা হয়েই থেকে যাবে। ভারতের স্বাধীনতা হস্তান্তরীত হয়েছে প্রায় ছিয়াত্তর বছর হয়ে গেল। প্রশ্ন হলো, আমরা কি এখনও সেই দুর্বলতা থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে পেয়েছি। রাজনীতির ছদ্মবেশে, সমাজের জলাজঙ্গলে এখনও কি আমরা আমাদের পূর্বপুরুষের রেখে যাওয়া সামাজিক পাঁকের মধ্যে হাবুডুবু খাচ্ছি না? আদীম মানুষের হিংস্রতার উত্তরসুরি হয়েই কি আমরা এখনও পথ চলছি না? এখনও কি সেই আদীম অন্ধকারের হাত থেকে আমরা আমাদের মানহারা মনবিকতাকে ফিরিয়ে আনতে পেরেছি? সম্ভবত (তা কেন! হয়ত নিশ্চিত) “না”। রবীন্দ্রনাথের চোখ দিয়ে ইতিহাসকে দেখলে, আমরা দেখতে পাব, পশ্চিমী শাসনব্যবস্থার অনুসরণে আমরা আমাদের মোক্ষকে খুঁজে বেড়াই “রাষ্ট্রের” মধ্যে। আর এই নিরর্থক খোঁজার মাঝে ভুলে যাই, ভারতে আবহমানকাল, রাষ্ট্রের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল সমাজ। তাই আলেকজান্ডারের সময় থেকে বিদেশী শক্তি বারবার ভারতের শাসন-শক্তিকে দখল করেছে, নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করেছে। হয়ত কেউ কেউ, আমাদের দেশীয় রাজাকে রাজার সম্মান দিয়ে, তাঁর শর্তহীন অনুগত্যেকে সুনিশ্চিত করে, নিজের দেশের দিকে পা-বাড়িয়েছিলেন। সমাজের দিকে নজর দেওয়ার সময় পান নি। তাই শতাব্দী থেকে শতাব্দীতে যাওয়ার মধ্যেই বহুবার, আমাদের শাসন-ক্ষমতা, নির্মম নিষ্টুরতায় বিদেশি শাসকের কাছে পদানত হয়েছে। কিন্তু রাষ্ট্রীয় শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের কোন প্রতক্ষ প্রভাব সমাজ-ব্যবস্থার মধ্যে দৃশ্যমান হয় নি। কিন্তু আধুনিককালে ইউরোপীয় অনুকরণে পুষ্টি লাভ করে, ভারতের রাজনীতিতে রাষ্ট্র প্রাধান্য লাভ করতে শুরু করেছে। সমাজ, তুলনায় গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে। রবীন্দ্রনাথ রাষ্ট্রের এই গুরুত্ব বৃদ্ধিকে কখনই ভাল চোখে দেখেন নি। তিনি মনে করতেন ব্রিটিশের সংস্পর্শে এসে, ভারতের মধ্যে এই ত্রুটি ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সমাজের পরিবর্তে, মানুষের মধ্যে রাষ্ট্রের উপর নির্ভরশীলতার পরিমান বেড়ে চলেছে। সমাজ হয়ে পড়ছে গৌণ। তাঁর লক্ষ্য ছিল সমাজকেন্দ্রীক রাজনৈতিক ধারার প্রবর্তন করা। রবীন্দ্রনাথ বিশ্বাস করতেন, ভারতে রাষ্ট্রের উপর বা সরকারের উপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতাকে সুনিশ্চিত করার জন্যে, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা অপেক্ষা, সমাজকে সক্রিয় ও সুসংহত করে তোলা প্রয়োজন। এর মধ্যেই সামাজিক মানুষ তার যথার্থ স্বাধীনতা ভোগ করতে পারবে। তিনি এক স্বয়ংসম্পূর্ণ সমাজকেন্দ্রীক রাজনৈতিক চিন্তার প্রসার ও প্রবর্তন চেয়েছিলেন। কারণ তাঁর মতে এই প্রসার ও প্রবর্তনই হলো যথার্থ গঠনমূলক কার্যাবলী। সমাজের সকল মানুষ সচেতনভাবে নিজেদের উদ্যোগে এবং সমবেত প্রচেষ্টায় যখন দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য চাকুরি ইত্যাদি বিবিধ ব্যক্তিগত জীবনের ও নাগরিকজীবনের সমস্যাগুলির মোকাবলা করতে পারবে, তখনই দেশ যথার্থ স্বাধীনতা লাভের উপযুক্ত হয়ে উঠবে। তিনি বলতেন, সরকারের মধ্যে থেকে রাষ্ট্র নায়ক বলে বিবেচিত নের্তৃবৃন্দ্র দেশের জন্যে যে পরিশ্রম করার কথা দাবি করছেন, সেই পরিশ্রম যদি সাধারন মানুষের ভিতরকার চেতনাকে জাগ্রত করতে করে তুলতে ব্যয় করেন এবং তার নিমিত্ত কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করতে পারেন, তবেই নের্তৃবৃন্দ্রকে সামাজিক ও রাষ্ট্রিক নের্তৃত্বের মর্যাদা দেওয়া যেতে পারে। ইংরেজের কাছে স্বাধিকার বা স্বায়ত্ব ক্ষমতা ভিক্ষা করার চেয়ে, আত্মপ্রতিষ্ঠা রবীন্দ্রনাথের কাছে অনেক বেশী কাঙ্ক্ষিত ছিল। স্বাধীনতার ভিক্ষাকে তিনি কার্যত ঘৃণার চোখেই দেখতেন। কারন তিনি বিশ্বাস করতেন এ’ভাবে দেশের মানুষের উন্নতি হয় না, তার সমস্যার সমাধান হয় না। রাষ্ট্র ক্ষমতার বাইরে মানুষ যখন আত্মশক্তিতে বলিয়ান হয়ে উঠবে, তখনই সে স্বাধীনতার উপযুক্ত হয়ে উঠবে, রবীন্দ্রনাথ এভাবেই সমাজ, রাজনীতি ও সামাজিক মানুষকে দেখতেন। রবীন্দ্রনাথের চিন্তায়, বিদেশী শক্তির কাছ থেকে স্বাধীনতা আদায় করলে, তার মধ্যে আত্মশক্তির উপযুক্ত প্রকাশ ঘটে না। নিজের আত্মশক্তিতে যে স্বাধীন সমাজ গড়ে তোলা যায়, তার মধ্যেই আছে ব্যক্তিত্বের পূর্ণতা। স্বায়ত্বশাসনের অধিকার, যার জন্যে আমাদের মূল লড়াই, তা আমাদের সহজাত। আমাদের কাছেই তা আছে। ইংরেজ কখনই তা থেকে আমাদের বঞ্চিত করতে পারবে না। রবীন্দ্রনাথ ‘আত্মশক্তি’ প্রবন্ধ গুচ্ছর “”সফলতার সুফল” প্রবন্ধে লিখেছিলেন, “স্বায়ত্বশাসনের অধিকার আমাদের ঘরের কাছে পড়িয়া আছে – কেহ তাহা কাড়ে নাই এবং কোনদিন কাড়িতে পারেও না”। ---- তবে তা পাওয়ার জন্যে আমাদের একত্রিত ইচ্ছার প্রয়োজন। “এজন্য গবর্মেন্টের চাপরাস বুকে বাঁধিবার দরকার নেই। কিন্তু ইচ্ছা যে করে না, এক হই না। তবে চুলোয় যাক স্বায়ত্বশাসন। তবে দড়ি ও কলসীর চেয়ে বন্ধু আমাদের আর কেহ নাই”। (রবীন্দ্ররচনাবলী ১২ খন্ড)। ব্রিটিশ শক্তির শোষণমূলক নীতি সম্পর্কে তিনি ওয়াকিবহাল ছিলেন। কিন্তু তিনি তার বিরুদ্ধে সরাসরি আন্দোলন অপেক্ষা আনেকবেশী গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করতেন, আত্মনির্ভরশীল সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তোলা। তিনি মনে করতেন ব্রিটিশ শাসকের কাছে কিছু প্রত্যাশা করা নিরর্থক। সে প্রত্যাশা করজোড়ে ভিক্ষা-সমই হউক বা বজ্রমুষ্টির আন্দোলনের দ্বারাই হোক। শাসকের কাছে দাবি করে কখনও স্বাধীনতা আদায় করা যায় না। স্বাধিনতার যোগ্য হয়ে উঠলে, স্বাধীনতার দাবি অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ে। রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তার মধ্যে এক প্রচ্ছন্ন দ্বিধা বা দ্বন্ধ্ব ছিল। তিনি ইউরোপের সাম্রাজ্যবাদী বিস্তার কোনদিনই সমর্থন করতে পারেন নি, আবার ভারতে সেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তির বিরুদ্ধে উচ্চ স্বরে প্রতিবাদ করতেও পিছপা হন নি। অন্যদিকে, ভারতে চলা তৎকালীন স্বদেশী আন্দোলনকেও মুক্তকন্ঠে সমর্থন করতে পারেন নি। আবার ১৯২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রবীন্দ্রনাথ Modern Review পত্রিকায় প্রকাশ করেন তাঁর প্রবন্ধ “Cult of the Charka”। এই প্রবন্ধে স্বদেশী অন্দোলনকে সমর্থন করেও তিনি গান্ধীজীর চরকা নির্ভর স্বদেশীয়ানাকে সমালোচনা করতে গিয়ে ইঙ্গিত দেন গান্ধির চরকা ধর্মী অসহযোগীতা কখনই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের ভিত নড়াতে পারবে না। এর আগে ১৯০৪ সালের ২২ শে জুলাই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ কৃত, বাংলা বিহারের বিভাজন বা বঙ্গভঙ্গকে মেনে নিতে ত পারেনই নি উপরন্তু ভীষণভাবে মর্মাহত হন। এই সময় রবীন্দ্রনাথ “স্বাদেশী সমাজ” নামে একটি বক্তৃতা দেন। এই বক্তৃতায়, তিনি বঙ্গভঙ্গের কোন বিকল্পের পরিবর্তে, তিনি স্ব-সহায়ক বা সমবায়ের ভিত্তিতে গ্রামীন সমাজ পুনর্গঠনের উপর জোর দেন। তিনি বলেন, ভারতের রাজনৈতিক ক্ষমতায় ব্রিটিশের দখলীয়ানা, আসলে হল আমাদের সামাজিক অসুস্থতার রাজনৈতিক প্রকাশ। তিনি বঙ্গবাসীকে আহবান করে বলেন, শুধু বিপ্লবের দ্বারা এই অসুস্থতা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে না। একমাত্র উদ্দেশ্য প্রণোদিত শিক্ষার বিস্তার ঘটালে, তবেই ভারতবাসী তার মুক্তির পথ খুঁজে পাবে। এই একই দর্শনে, রবীন্দ্রনাথ জাতীয়তাবাদের নিন্দায় সরব ছিলেন। তিনি সরাসরি বিশ্বাস করতেন, জাতীয়তাবাদ হল মানবজাতির সবচেয়ে বড় সমস্যা, যার থেকে মুক্তি ছাড়া, মানুষের সার্বিক মঙ্গল সম্ভব নয়। তিনি লিখেছিলেন, “জাতি” এমন একটি অদ্ভুত দৃষ্টিভঙ্গি বা বর্তমান শতাব্দীর অনুমান, যা মানুষকে যান্ত্রিকভাবে একত্রিত করতে যেমন সাহায্য করে, তেমনি স্বার্থপরের ন্যায় নিজের উদ্দেশ্য সাধন করার সম্ভাবনার কথা বলে, তার যঙ্গে যুক্ত করে রাখে। তাঁর মতে জাতীয়তাবাদ হলো, ব্যক্তি স্বার্থের চূড়ান্ত বিবর্ধিত এক রূপ। এই চিন্তার প্রতিক্রিয়ায়, পরবর্তীকালে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে জাতীয়তাবাদের বিপুল সংক্রামিত বিস্তার তাঁকে কষ্ট দিয়েছিল। তিনি তাঁর বিদেশ পরিভ্রমনকালে পূর্ব ও পশ্চিমের মিলনের স্বপ্ন দেখতেন। বিদেশে পরিভ্রমনকালে তিনি পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের জাতীয়তাবাদের অভীজ্ঞতা লাভ করেন। এই অভীজ্ঞতা তাঁর কাছে কখনই সুখপ্রদ ছিল না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পুর্বে জার্মান ও ইউরোপের আরও কিছু দেশ ভ্রমনের অভীজ্ঞতায়, জাতীয়তাবাদের সর্বংগ্রাহী রূপ দেখে, ভীষণ রকম মর্মাহত হন। তাঁর এই অনুভুতিকে প্রকাশ করতে রবীন্দ্রনাথ বিদেশে এবং স্বদেশে বিভিন্ন স্থানে একগুচ্ছ বক্তৃতা দেন। তাঁর বক্তৃতা ইউরোপের বিভিন্ন প্রান্তে সাদরে গৃহীত হলেও, জাপান বা আমেরিকা যুক্ত্রাষ্ট্রের মতো বৃহৎ শক্তির দেশে তার কোন প্রভাবই পড়ে নি। বরং কিছুটা হলেও এই দেশগুলিতে তিনি সমালোচনার মুখোমুখি হন। জাতীয়তাবাদের বিরধীতা স্বত্ত্বেও এই সময় তিনি ভারতের স্বাধীনতার মহানত্ব নিয়ে একের পর এক গান রচনা করেন। সেই গানে রবীন্দ্রনাথ ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনকে এক সিঙ্ঘবিক্রমজাত আন্দোলন হিসাবে বর্ণনা করেন। আবার একই জাতীয়তাবোধ থেকে ১৯১৯ সালের ১৩ই এপ্রিলের জালিয়ানোয়ালা বাগের হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে (বৃটিশ সেনাবাহিনী, এক অমানবিক নৃশংসতা্‌ জালিয়ানোয়ালা বাগে কমপক্ষে ৩৭৯ নিরস্ত্র নাগরিককে হত্যা করেছিল) , ১৯১৯ সালের মে মাসে রবীন্দ্রনাথ বৃটিশ সরোকার প্রদত্ত “নাইট” উপাধি ত্যাগ করেন। ১৯১৫ সালে রবীন্দ্রনাথ তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড হার্ডিঞ্জের কাছ থেকে এই উপাধি পেয়েছিলেন। আবার প্রত্যক্ষ রাজনীতির ক্ষেত্রে রবীন্দ্রনাথ, গান্ধীজী ও আম্বেদকারের মধ্যেকার রাজনৈতিক বিবাদ মীমাংসায় অন্যতম সহায়ক শক্তির ভুমিকা পালন করেছিলেন। বিরোধের মূল কারণ ছিল, অস্পৃশ্যদের নিমিত্ত পৃথক নির্বাচন ক্ষেত্র বা কেন্দ্র নির্মান প্রসঙ্গে আম্বেদকারের প্রস্তাবের প্রবল বিরোধী ছিলেন গান্ধীজী। গান্ধী, এমন কি এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধীতা করে ১৯৩২ সালের ২০শে সেপ্টেম্বর “আমরণ অনশন” শুরু করেন। ১৬ই আগস্ট ১৯৩২ সালে তদানীন্তন বৃটিশ প্রধান্মন্ত্রী র‍্যামস্যে ম্যাকডোনাল্ড “গোলটেবিল কনফারেন্সের” অব্যবহিত পর, প্রস্তাব পেশ করেন, ভারতে তফসিলি জাতি, উপজাতি ও অনান্য নিম্নশ্রেণীভুক্তদের জন্যে পৃথক নির্বাচন ক্ষেত্র গঠন করা প্রয়োজন। এর পূর্বে ১৯০৯ সালে গৃহীত ‘ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অ্যাক্ট’ মুসলমানদের জন্যে পৃথক নির্বাচন ক্ষেত্র গঠন করে। পরে তা শিখ ও ভারতীয় খ্রীষ্টানদের ক্ষেত্রেও সম্প্রসারিত হয়। ১৯১৯ সালের ‘ভারত সরকার আইনে’ এই সুবিধা ভারতের ইউরোপীয়ান ও অ্যাংলো ইন্ডিয়ানদের জন্যেও বরাদ্দ করা হয়। বৃটিশ সরকারের এই বিশেষ সুবিধা প্রদানের নীতিকে সাধারণ হিন্দু অধ্যুষিত কংগ্রেস দল ভালোভাবে গ্রহন করে নি। তারা সন্দেহ প্রকাশ করে যে, এর দ্বারা বৃটিশ সরকার হিন্দুদের মধ্যে বিভাজন আনতে চাইছে। গান্ধীজীর দৃঢ় সন্দেহ ছিল, এই বিভাজন হিন্দু সমাজকে দ্বিবিভক্ত করে দেবে। কিন্তু আম্বেদকার এই সুবিধা প্রদানের প্রস্তাবকে সমর্থন করেছিলেন। আম্বেদকার সেই সময় উল্লেখ করেন, গান্ধীজী মুসলমান ও শিখদের পৃথক নির্বাচন ক্ষেত্রকে মেনে নিচ্ছেন, অথচ, সংখ্যালঘু ও নিম্নবর্গীয়দের সুবিধার প্রশ্নে বিরোধীতা করছেন। কারণ আম্বেদকারের ব্যাখ্যায়, গান্ধীজী ‘ভয় পাচ্ছিলেন, এর ফলে কংগ্রেসে না ভাঙ্গন ধরে’। তাই তিনি বহু জাতি বিভক্ত হিন্দু সমাজের নিম্নবর্গীয়দের সুবিধার প্রশ্নে অনঢ় হয়ে থাকছেন। এই রকম এক সঙ্কটময় পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথের ভূমিকা ছিল ইতিবাচক। কারণ তাঁর কাছে, সাম্প্রদায়িক বা জাতিগত বিভক্তি অপেক্ষা অনেকবেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিল মানবিকতা ও শিক্ষার বিকাশ। এ’সত্ত্বেও এর অর্থ এই নয় যে, রবীন্দ্রনাথের উপলব্ধিতে জাতিভেদ, জাতি বিদ্বেষ, সমাজিক স্তরে জাতির অবস্থানগত ভেদাভেদ, ইত্যাদি সমস্যাগুলির কোন গুরুত্ব ছিল না। ১৯২০সালে রবীন্দ্রনাথ জর্জ বার্ণাড শ এর সঙ্গে আলচনায় এইসমস্যাগুলির ব্যাপারে তাঁর মতামত ও অবস্থান স্পষ্ট করে জানান। শিক্ষা ও শিক্ষার ধরণ সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ধারনা ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। তিনি বৃটিশ প্রবর্তিত মুখস্তভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা এবং শুধুমাত্র পাশ-ফেলের মাধ্যমে মেধা নির্ধারণের শুধু তীব্র বিরোধিই ছিলেন না, এই ব্যবস্থাকে সমালোচনার কড়া কশাঘাত করতেও তিনি কুন্ঠা বোধ করেন নি। শুধু বক্তৃতায় নয় ব্যাঙ্গ কবিতা,গল্পের মধ্যে দিয়েও তিনি এর সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর বিখ্যাত “কাকাতুয়ার প্রশিক্ষণ” কিংবা শহর ফেরত কাবুলি বিড়াল সহ শিক্ষিত যুবকের প্রহসন ধর্মী নাটিকা, এ’ব্যাপারে কিছু উদাহরণ হতে পারে। এখনও শিক্ষা নীতির সমালোচনায় রবীন্দ্রনাথের অবস্থান সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তিনি তাঁর শিক্ষা ভাবনাকে বাস্তবায়িত করার ক্ষেত্র হিসাবে শান্তিনিকেতনকে বেছে নিয়েছিলেন। সংক্ষেপে অথচ সু-নির্দিষ্টভাবে রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তার সারাৎসারগুলি নিম্নে উল্লেখ করা হলো। এইগুলি পাঠককুলকে সাহায্য করবে, রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তার মূল অভিক্ষেপগুলিকে অনুসরণ করতে। 1) রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদের তীক্ষ্ণ সমালোচক। রবীন্দ্রনাথ স্বয়ং জাতীয়তাবাদী ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেম জাতীয়তাবাদকে সংকীর্ণ পরিধি থেকে মুক্ত করতে। তিনি বিশ্বাস করতেন মানুষের আত্মশক্তির পরিপূর্ণ বিকাশের প্রয়োজনীয়তার উপর। তাঁর মতে সংকীর্ণ জাতিয়তাবাদ মানুষকে বিচ্ছিন্নবাদী করে তোলে। কারণ সংকীর্ণ জাতীয়তাবাদ বিচ্ছিন্নতাবাদকেই লালিত করে। দেশের প্রতি ভালবাসা বর্জিত বিচ্ছিন্নতাবাদ হলো মানবজাতির অস্তিত্বের নিকট এক হুমকি। রবীন্দ্রনাথ তাঁর গভীর প্রত্যয় থেকে ‘জাতীয় রাষ্ট্রের’ ধারণাকে বর্জন করেন। কারণ তিনি বিশ্বাস করতেন পৃথিবীর সকল মানুষকে নিয়ে গড়ে ওঠা ‘মহা যুক্তরাষ্ট্রীয়’ ব্যবস্থাকে। এই বিষয়ে তাঁর ব্যাঞ্জনাময় মত ছিল, সার্বিক মনুষ্যত্বের প্রতি প্রেম ছাড়া দেশপ্রেমের কোন আলাদা গর্ব বা অনুভুতি নেই। তিনি চাইতেন তিনি যেন অন্তত জীবনের শেষ পর্বে এসেও, বিশ্বের যে কোন প্রান্তে তাঁর বাসস্থানকে খুঁজে নেওয়ার অধিকার পান। 2) ঐশ্বরিক সামাজ্যের নাগরিকত্ব। তিনি বিশ্বাস করতেন জাতীয়তাবাদ মানুষের দৃষ্টি পথকে সংকীর্ণ করে তোলে। ঐশ্বরিক সামাজ্যের পরিবর্তে মানুষকে বন্দী করে দেয় সংকীর্ণ মরু বালুরাশির মধ্যে। তাঁর কাছে সমগ্র পৃথিবীটাই ছিল একটি ঐশ্বরিক রাজ্য, তিনি তারই নাগরিক হতে চাইতেন। অবশ্য রবীন্দ্রনাথের এই ভাবনা প্রসঙ্গে মন্তব্য করাই যায়, তাঁর ঐশ্বরিক সামাজ্যের চিন্তা ছিল, একতি আদ্যান্ত কল্পনাপ্রবন চিন্তা। 3) আগ্রাসী বানিজ্যিকীকরণের বিসর্জন। কবি রবীন্দ্রনাথ হৃদয় থেকে অনুভব করতেন, ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি ভারতে এসেছিল, হাতে ‘বাইবেল’ নিয়ে, কিন্তু তার ভিতরে লুকানো ছিল বন্দুক। তাদের আগ্রাসী বানিজ্যিক প্রচেষ্টার একমাত্র লক্ষ্য ছিল, ভারতের বানিজ্যিক বাজার দখল করা। শুধু ব্রিটিশ শক্তিই নয়, ইউরোপের তথা পশ্চিমের শক্তিসমূহের লক্ষ্যই ছিল ভারতের ন্যায় দেশগুলির বাজার দখল করা, এবং শোষণের রাজদন্ড নামিয়ে আনা। ব্রিটিশ শক্তি বা অনান্য পশ্চিমী শক্তির এই লোভ ও লালসাই ছিল মানবিকতার অন্যতম শত্রু। তাই তিনি সর্বত্র এই আগ্রাসী বানিজ্যিকীকরণের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন এই আগ্রাসী মনোভাবই মানবিকাতা বিকাশের প্রধান অন্তরায় এবং ধ্বংসকারী। 4) মানবিকতার স্বার্থেই প্রয়োজন এক মিশ্রিত মানবিকতা বোধ। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন সংকীর্ন জাতীয়তাবাদের অনেক উর্দ্ধে অবস্থানকারী এক যথার্থ বিশ্বকবি। তিনি বলতেন, বিভিন্ন জাতি উপজাতিকে তাদের মধ্যেকার লৌহ সদৃশ পার্থক্যকের প্রাচীরকে ভেঙ্গে ফেলতে হবে। নচেৎ মানুষ মুক্তি আর স্বাধীনতার যথার্থ স্বাদ পাবে না। সকল মানুষ যতক্ষন না পর্যন্ত সকলের সঙ্গে হৃদয় বোধকে মিলিয়ে দিতে না পারবে, ততক্ষন তার মধ্যে আসল মানবিকতা বিকশিত হবে না। মনে রাখতে হবে বিশ্বের মহান স্রষ্টাও তাঁর বিশ্বপৃথিবী সৃষ্টিকালে এটাই দেখতে চেয়েছিলেন। তিনিও চেয়েছিলেন মানহারা মানবীর পাশে দাঁড়াতে। অন্ধকার থেকে মুক্ত হতে। 5) জাতিরাষ্ট্রের মধ্যেকার মনুষ্য সৃষ্ট বিরোধের প্রাচীর ভেঙ্গে ফেলতে হবে। রবীন্দ্রনাথ চাইতেন, মানুষ যেন তার চিন্তা অস্তিত্বকে ক্ষুদ্র রাষ্ট্রের সীমারেখার মধ্যে বেঁধে না রেখে, আপন-পর ভেদাভেদ ভুলে, বিশ্বরাষ্ট্রের সঙ্গে লীন হয়ে যেতে পারে। হয়ত প্রাথমিক পর্যায়ে এই মিলন প্রচেষ্টা মানুষের মধ্যে অনাকাঙ্খিত বিরোধ ও দ্বন্ধ্বের সৃষ্টি করবে (বিশেষত দুটি বিশ্ব যুদ্ধে এই বিরোধ আর দ্বন্ধ্বের দ্বারাই মানুষ ও পৃথিবী আক্রান্ত হয়েছিল)। কিন্তু মানুষকে এর উর্দ্ধে উঠতে হবে। তাকে বিশ্বরাষ্ট্রের নাগরিক হয়ে উঠতে হবে। মানুষকে উপলব্ধি করতে হবে, কোন একটি রাষ্ট্রের বিপদের অর্থ হল সমগ্র বিশ্বের বিপদের সমতুল। 6) পারস্পরিক দাতব্য ও সহযোগিতা ও মানসিকতার উদাত্ত আহ্বান। রবীন্দ্রনাথ, ভয়, সন্দেহ, অবিশ্বাস, ঘৃণা, জাতীয় অহংবোধ ইত্যাদিকে পরিত্যাগের উপর সর্বাধিক জোর দিয়েছিলেন। কারণ এইগুলি আমাদের ভালবাসা, পারস্পরিক আস্থা ও বিশ্বাসের এবং বন্ধুত্ত্বের পথে সবথেকে বড় অন্তরায়। এইগুলির অস্তিত্ব একটি সুস্থ পৃথিবী গড়ার পথে সবথেকে বড় বাধা। এর থেকে উত্তোরন ঘটলে তবেই মানুষের মুক্তি সম্ভব। তার প্রত্যাশিত স্বাধীনতার বাস্তবায়ন সম্ভব। 7) অধিকার তত্ত্ব। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন মানব অধিকারের একনিষ্ট সমর্থক। তিনি বলতেন, মানুষকে ভয় থেকে মুক্ত হওয়ার জন্যে প্রয়োজন, মনকে শক্তিশালি করে তোলা। এর জন্যেই তাকে অহরহ চেষ্টা করে যেতে হবে। তিনি মনে করতেন দুর্বলতাই মানুষকে প্রতারিত হওয়ার দিকে এগিয়ে দেয়। পরাধীন ভারতের নিঃস্ব মানুষকে তাই নৈতিক শক্তি সঞ্চয় করতে হবে, যা তাকে সুনিশ্চিতভাবে পরাধীনতা থেকে মুক্ত করবে। নতুনভাবে জীবনের পথে তাকে উঠে দাঁড়াতে সাহায্য করবে। তার অধিকার কারুর দ্বারা প্রতারিত হবে না। 8) স্বাধীনতা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের ধারনা। রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তায় সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ স্থান অধিকার করে আছে, তাঁর স্বাধীনতা সম্পর্কিত ধারণা। তিনি চিন্তার স্বাধীনতা ও চেতনার ঐকান্তিক সমর্থক ছিলেন। তাঁর কাছে স্বাধীনতা হলো, শাসকের স্বেচ্ছাধীন অত্যাচারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার আত্মশক্তি, পীড়ণকারী সামাজিক প্রথার বা পুরোহিত প্রথা জাত কুসংস্কার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা এবং তাকে সংশোধনের উ[পযুক্ত আত্মবিশ্বাস অর্জন করা। তিনি সমাজে নীতি সমৃদ্ধ এক স্বাধীন মানুষকে দেখতে চেয়েছিলেন। আর এই চাওয়ার মধ্যেই ছিল তাঁর রাজনৈতিক চিন্তার মূল শিকড়। রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বিশ্বনাগরিকত্ব প্রতিষ্ঠার পথ প্রদর্শক। তিনি এক অসাম্প্রদায়িক বিশ্ব্বের ছবি এঁকেছিলেন, যার মধ্যেকার মানুষ ছিল আত্মশক্তিতে বলিয়ান এক বিশ্বজাতির অংশ। এই আদিগন্ত দৃষ্টিভঙ্গিকে সামনে রেখে, তিনি গান্ধীজীর ‘অসহযোগিতার আন্দোলনেরও বিরোধিতা করতে কুন্ঠিত হন নি। তিনি কংগ্রেসের বিদেশি কাপড় পোড়ানোর আন্দোলনকেও (১৯২০-২২) মেনে নিতে পারে নি। কারণ এই আন্দোলন, তাঁর মতে শুধু ঘৃণারই বিস্তার করে, ফলপ্রসু হয় না। ব্রিটিশ সামাজ্যবাদের অস্তিত্বকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে না। এই ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে ছদ্ম লড়াইএ, শেষ পর্যন্ত সন্দীপরা গোপনে, নিজেকে বাঁচিয়ে রাখার অজুহাতে পালিয়ে যায়। আর নিঃস্ব গ্রামবাসীকে রক্ষা করতে গিয়ে নিখিলরা প্রাণ দিতেও কুন্ঠা দকরে না। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে, রবীন্দ্রনাথ অবশ্যই জাতীয়তাবাদী, কিন্তু প্রচলিত অর্থে তাঁর জাতিয়তাবাদকে আমরা বুঝতে পারব না। কারন তাঁর চিন্তার জাতীয়তাবাদ, ভারতে আন্দোলন রত কংগ্রেসী